সৃজিত মুখার্জি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাঁর নতুন ছবি *‘কিলবিল সোসাইটি’* আংশিক অনুপ্রাণিত অ্যাঞ্জেলিনা জোলির জীবনের একটি আলোচিত অধ্যায় থেকে।...
সৃজিত মুখার্জি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাঁর নতুন ছবি *‘কিলবিল সোসাইটি’* আংশিক অনুপ্রাণিত অ্যাঞ্জেলিনা জোলির জীবনের একটি আলোচিত অধ্যায় থেকে। মাত্র বাইশ বছর বয়সে নিজের জীবনের ইতি টানতে একজন ভাড়াটে খুনিকে অর্থ দিয়েছিলেন জোলি—সেই বাস্তব কাহিনিই এবার রূপ পেয়েছে সৃজিতের পর্দায়।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ট্রেলারে সেই গল্পের ছায়া স্পষ্টভাবে ধরা দিল কৌশানী মুখোপাধ্যায়ের চরিত্রে। তিনি অভিনয় করেছেন পূর্ণা আইচের ভূমিকায়—একজন তরুণী যার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে পর্নসাইটে, শুরু হয় পারিবারিক ও সামাজিক তীব্র চাপ। প্রেমিক থাকে নিরুত্তাপ। সবকিছু থেকে মুক্তি পেতে চায় পূর্ণা, কিন্তু আত্মহত্যা নয়, সে চায় নিজেকেই খুন করাতে। তাই ‘কিলবিল সোসাইটি’র কাছে যায়, নিজেই নিজের নামে ‘সুপারি’ দেয়।
এখানেই গল্পে আসে মৃত্যুঞ্জয় কর, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্র। তিনি সেই ভাড়াটে খুনি—যার সঙ্গে এক অনিচিত পরিচয় ধীরে ধীরে প্রেমে রূপ নেয়।
এই দ্বন্দ্ব—ভালোবাসা না মৃত্যু—এর উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত, যেদিন মুক্তি পাবে *‘কিলবিল সোসাইটি’*।
সৃজিত তাঁর আগের জনপ্রিয় ছবি *‘হেমলক সোসাইটি’*–র রেশ টেনে এনেছেন এই ছবিতে। ১৩ বছর পর কেমন আছে সেই ছবির প্রাণপুরুষ আনন্দ কর ও তাঁর চারপাশের মানুষজন? *‘কিলবিল সোসাইটি’* তারই উত্তর দেবে।
পরমব্রতর লুক এবার একেবারেই আলাদা। চরিত্রে বিশ্বাস রাখতে গিয়ে নিজ হাতে মাথা কামিয়ে ফেলেছেন, ব্যবহার করেননি কোনো প্রস্থেটিক। আনন্দ কর এখন আর আত্মহত্যা প্রতিরোধের পরামর্শদাতা নন, বরং মৃত্যুর ঠিকানা দেওয়া ‘কিলবিল সোসাইটি’র কর্ণধার।
অন্যদিকে কৌশানী ধরা দিয়েছেন একেবারে রাফ-অ্যান্ড-র’ লুকে। সমাজের চোখরাঙানিকে উপেক্ষা করে নিজের নিয়মে চলা এক মেয়ের ভূমিকায়। কিন্তু গল্প মোড় নেয় এক সময়। সেই বেপরোয়া পূর্ণা হঠাৎ করে হয়ে ওঠে হতভাগ্য, অসহায়—কেন? কীভাবে?
ট্রেলারে রহস্যের ইঙ্গিত মিলেছে বটে, তবে পূর্ণার নতুন জীবনের সম্ভাবনা, মৃত্যুঞ্জয় ও তাঁর সম্পর্ক—সব প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে প্রেক্ষাগৃহে ঢুঁ মারতেই হবে। ১১ এপ্রিল দেখা যাবে, শেষ পর্যন্ত *‘শেষের কবিতা’* কে লেখে—ভালোবাসা, না মৃত্যু।
এই সিনেমায় অনুপম রায়ের সঙ্গীত, টানটান সংলাপ ও মনকাড়া অভিনয় মিলে তৈরি হয়েছে এক নতুন অভিজ্ঞতা। কাস্টিংও বেশ নজরকাড়া—নামের তালিকায় আছেন পরিচিত সব মুখ। সব মিলিয়ে, *‘কিলবিল সোসাইটি’* নিয়ে প্রত্যাশার পারদ এখন তুঙ্গে।
‘**কিলবিল সোসাইটি**’-তে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কৌশানী মুখার্জি শেয়ার করলেন ছবিতে যুক্ত হওয়ার এক মজার গল্প। তিনি বলেন, “সৃজিতদা আমাকে প্রথম ফোন করেন আর সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘তোর চুমু খেতে সমস্যা আছে?’ আমি বলেছিলাম, ‘অবশ্যই আছে।’ তখন উনি ব্যাখ্যা দেন, ছবির গল্পের প্রয়োজনে সেই দৃশ্যটা জরুরি। এরপর আমি পুরো চিত্রনাট্য শুনি, আর তখন বুঝতে পারি, এই চরিত্রটা কোনো সাধারণ চরিত্র নয়। এমন অসাধারণ একটি গল্প, না বলার উপায়ই ছিল না। সৃজিতদার মতো আমিও মনে করি, কিছু দৃশ্য গল্পের স্বার্থে দরকার হয়, আর এটা ঠিক তেমনই।”
চুম্বন দৃশ্যে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে কৌশানী আরও বলেন, “আজ আমি খুব স্বচ্ছন্দে বলতে পারি, এটা আমার অভিনীত সবচেয়ে শক্তিশালী চরিত্রগুলোর একটি। যেখানে আমি আগে এমন দৃশ্যের বিরোধিতা করতাম, সেখানে নিজেকে এই চরিত্রের খাতিরে মানিয়ে নিয়েছি। এমনকি বনির সঙ্গেও আগে কখনো পর্দায় চুম্বন দৃশ্যে অভিনয় করিনি। কিন্তু *‘কিলবিল সোসাইটি’*–তে চরিত্রটা এতটাই গভীর ও সমৃদ্ধ ছিল, যে নিজের সীমা ভাঙতে দ্বিধা করিনি।”
সব মিলিয়ে, এই চরিত্রের জন্য নিজের মধ্যে একটা নতুন রূপ দেখেছেন কৌশানী—এমনটা বলতেই পারেন তিনি।
সবার আগে পেতে Follow করুন:
" আঁধার আলো নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে"